Tuesday, April 5, 2022

Zunayed Evan Book

Zunayed Evan Book

 শেষ  Shesh - জুনায়েদ ইভান 


উৎসর্গঃ বাবা’কে। 


আমার বাবা সিংহের মত না , সিংহের স্বভাব হল সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সব সময়ই পালানোর জন্য নির্দিষ্ট  একটা জায়গা সে রাখে।  আমার বাবা বট গাছের মত। পড়ন্ত রোদে ছায়ার দরকার হলে আমি বট  গাছের নিচে গিয়ে দাড়াই। রোদ যে এত সুন্দর সেটা ছায়ার ভেতরে থেকে না তাকালে বুঝতে পারতাম না।

জুনায়েদ ইভান এর লেখা

জুনায়েদ ইভান এর লেখা

 লেখা- জুনায়েদ ইভান ভাই! ❤


তোকে শৈশবে ক্লাস রুমে দেখেছিলাম 

ডাস্টার হাতে মুছে দিতে আমাকে 

শৈশবে তোকে সেডনেস গানের 

হেডফোনে পেয়েছিলাম।


শৈশবে তোকে ফোন করেছিলাম 

ভুল ডিজিটের ল্যান্ড ফোনে 

হ্যালো কে বলছেন ? 

শুনে ফোন রেখে দিয়েছি।


উন্মিনা টিচারের বিকেলের ক্লাসে 

ফর্সা নরম প্রথম হাত 

বাসায় এসে জ্যামিতি বইএর ভাজে 

সেই মুখ কল্পনা করেছিলাম।


তোকে কৈশোরে খুঁজে বেড়িয়েছি 

শপিংমলে; কোচিং সেন্টারে 

সুমনদের ছাদে লুকিয়ে দেখেছিলাম 

নীল জামা পড়া মানবী


তোকে মনে হত রানী এলিজাবেথ 

প্রিমিও এফের দরজা খুলে 

নিচের ঠোঁট কামড়ে চলে যেতে। 

উল্টো দিকে চুল আঁচড়িয়ে

ব্র্যান্ডের শার্ট গায়ে দেবার পরেও 

দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারিনি।


একুশে তোকে নাস্তা করিয়েছিলাম 

অনুরাগ হোটেলে 

আড়ংএর সামনে রিকশা থামিয়ে যেভাবে কেঁদেছিলি 

এভাবে আমার জন্য কেউ কাঁদেনি


মহিনের লিরিকে, তলস্তয়ের গল্পে

পূর্ণ দৈর্ঘ বাংলা ছায়াছবির 

শ্রাবণ মেঘের দিনে 

দেখেছিলাম তোকে


সিনেমা হলে দেখেছিলাম 

পপ কর্ণ হাতে নিয়ে 

সহ্যের বাইরে এক মানবী দেখেছিলাম। 

লাল লিপিস্টিকে দেখেছিলাম 

নীল লিপিস্টিকে দেখেছিলাম 

লিপিস্টিক ছাড়া দেখেছিলাম 

শুকনো কোন আদরের ঠোঁট


তোকে সাজলে ভাল লাগে 

না সাজলে তোকে ভাল লাগে 

তোকে একটা একটা কথা বলতে ভাল লাগে 

অনেক কথা একটা করতে ভাল লাগে


তোকে অনেক বার দেখেছি 

স্টেডিয়ামের পেছনের গেটে 

প্লাস্টিকের চেয়ারে; 

ফ্লাইওভারে হর্ন না বাজানো গাড়ির 

নেমপ্লেটে দেখেছি 

সত্তর স্পীডের গাড়িটা চলে গেছে

ঠিকানা জানার আগেই।


তোকে কাঁদবোনা ভেবে কেঁদে ফেললে ভাল লাগে 

আযানের সময় মাথায় ওড়না দিলে; 

সামান্য শব্দে ভয় পেয়ে লেপের নিচে শুয়ে 

কার্টুন দেখলে ভাল লাগে তোকে।


চা খেতে খেতে, ট্রেনের ম্যাগাজিনে

কল্পনা করেছিলাম। 

অঞ্জনের লিরিকে, একস্টিক গানে 

আঁচ করেছিলাম তোকে।


তোকে যৌবনে দেখেছিলাম 

ঈদের আগের রাতে সেজে গুজে

একেবারে স্লিম চাঁদ

নেভালের জাহাজে বাতি জ্বালিয়ে 

বিয়ে করার প্ল্যান করেছিলাম


তোকে ত্রিশঊর্ধ্বে দার্জিলিং দেখাব 

সমরেশের আকাশে নস্টালজিক হব 

সব থেকে সুন্দর সমুদ্রে 

রাত কাটাব তারা গুনব


তোকে 

নালিশ করব 

শাসন করব 

মুড়ি চানাচুর মেখে মুভি দেখব 

তোকে 

আদর করব 

দাবা খেলব 

শোবার সময় বালিশের পাশে রাখব।


তোকে বৃদ্ধ বয়সে আকাশ দেখাব 

বৃদ্ধ বয়সে আবার চুমো খাব 

প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেব। 

বৃদ্ধ বয়সে গান শোনাব তোকে 

যৌবনের ছারপোকা এ্যালবাম থেকে।


 লেখা - জুনায়েদ ইভান

লেখা - জুনায়েদ ইভান

 লেখাঃ জুনায়েদ ইভান ভাই 


একটা ট্রাফিক যখন হাতের ইশারায় সিগন্যাল দিয়ে সব গাড়ি আটকে দেয়, তখন আটকে থাকা গাড়ি গুলোর ভেতরে সব চাইতে বেশি আফসোস করে কোন গাড়ির যাত্রীগুলো জানেন ? অবশ্যই যে গাড়ি গুলো সিগন্যালের প্রথম সারিতে থাকে। তারা বাড়তি কষ্টটা এই কারণে পায় যে তাদের ঠিক আগের গাড়িটাই পার হয়ে গেছে !

বিড়ম্বনাই তার একমাত্র কষ্ট না; সে থেমে আছে এই কষ্টটাকে ছাপিয়ে গেছে তার ঠিক পাশেরজন এগিয়ে গেছে - এই ভাবনাটাই তাকে সিগন্যালে আটকে থাকা পেছনের অন্য যাত্রীদের চাইতে বেশি ভোগাচ্ছে !

লক্ষ করলে দেখবেন অধিকাংশ সময়ই নিজের থেমে থাকার জন্য না বরং অন্যকেউ কেন এগিয়ে গেছে এই নিয়ে আমরা একধরনের যন্ত্রণায় ভুগি। সেই অন্য কেউ যদি বিল গেটস হয় তাহলে আমাদের কিছুই আসে যায় না কিন্তু যখনই আপনার পাশের কেউ হয় তখন কেন এরকম সুড়সুড়ে লাগে জানেন ?

কারণ আমাদেরকে বড় করাই হয়েছে একধরণের প্রতিযোগিতার


মধ্য দিয়ে। অথচ জীবনটা এরকম কোন রেইস খেলা না যে কেবল যারা ফাস্ট সেকেন্ড থার্ড হবে তারাই মেডেল পাবে; সব চাইতে পেছনে যে দৌড়াচ্ছে, সে কিন্তু চাইলেই এভাবে ভাবতে পারে যে তার পেছনে কেউ নেই।

সে যদি এখন উল্টো দিক দিয়ে দৌড় শুরু করে তাহলে সেখানে সেই প্রথম হবে। ইয়েস! যারা সাকসেস হয়েছে তারা কিন্তু সবার দেখানো পথ ধরে সামনে এগোয় নি, তারা নিজেরাই একটা পথ তৈরি করে নিয়েছে।

Wednesday, March 30, 2022

Books Of Zunayed Eman

Books Of Zunayed Eman

কারো উৎসাহে আত্মতুষ্টিতে ভোগার অর্থ হল কারো নিরুৎসাহে আপনি ভেঙ্গে পড়বেন। পাশ্ববর্তী চরিত্রদের গুরুত্ব দেবার কিছু নেই।
Books Of Zunayed Evan

Books Of Zunayed Evan

আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ আছে যারা একধরনের OCD তে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা একই জিনিস বার বার চিন্তা করে। একটা চিন্তা শুরু থেকে শেষ করে সেটা আবার প্রথম থেকে শুরু করবে।  তারা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করে। তাদের পুনরাবৃত্তি তাদের নিয়ে যায় এমন একটি বৃত্তের ভেতরে, যেখানে কোন বিন্দু নেই। কাজেই শুরু কিংবা শেষ নেই। অমীমাংসিত এক জগত। 

তারা যে এখান থেকে মুক্তি চায় ঠিক সেটাও না। কিন্তু কিছু একটা চায়। সেটা কী !! সেটা নিয়ে তারা কেউ কেউ ভাবে। সবাই মুক্তি চায় না, মুক্তি মানুষকে শেকড় থেকে দূরে ঠেলে দেয়। এখানে একেকটা মানুষের চিন্তা এবং সেই চিন্তার সিদ্ধান্তের সাথে অন্য আরেকটা মানুষের তফাৎ ঘটে। অর্থাৎ কেউ মুক্তি চায়, আর কেউ 'মুক্তি' থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু সকলে একই ট্রেনের যাত্রী, আসন ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক।  

এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান ? 

আপনার যে অভিমান আপনার নিজের সাথে অভিমান করে আছে, জানেন তাকে ? দুঃস্বপ্ন যখন পূর্বাভাস দেয় – সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম আশা হিসেব নিকেশ করে। যেটা বর্তমান থেকে অনেক দূরে, এমনকি নিকট অতীত থেকেও ; কেবলই এই দুশ্চিন্তার পুনরাবৃত্তি আপনাকে নিয়ে যাবে এক বৃত্তের ভেতরে। অমীমাংসিত এক জগত। 

এই রোগ থেকে মুক্তি চান ?? 

আপনার নৈতিক কিংবা অনৈতিক দ্বন্দ্ব, যা কিছু আছে সব লিখতে শুরু করুন। রাগ, ঘৃণা , অভিমান; এদের কখনো শাসন করার চেষ্টা করবেন না। একটু প্রকাশ করুন নিজেকে। অপরাধ করার প্রবণতা নামে যে স্বত্বা আপনাকে নষ্ট করে কিংবা নষ্টের সঙ্গায়নকারী সমাজ, - উভয়কে নাড়াচাড়া করুন- খেলনার মতো। 

যেমন করে মাঝি একটা নৌকা বাইয়ে নিয়ে যায় অন্যত্রে, তেমন করে আপনার ক্রোধ , ঘৃণা্, হতাশা আপনার মস্তিস্ক থেকে লেখার মধ্য দিয়ে কাগজে ঠাই নেয়। সব চেয়ে কুৎসিত গোপনীয়তা যেখানে, তাকে একটু কাছ থেকে দেখুন;  পলকহীন। সব চেয়ে বিষণ্ণ যে সুর, কান পেতে শুনুন। 
তারপর লেখাটি ছিঁড়ে ফেলে দিন। 

অসংখ্য অনর্থক দ্বন্দ্ব মস্তিস্কের ভেতর থেকে কাগজের নৌকা করে পৌঁছায় সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিনে। নিজেকে কেমন হালকা মনে হবে, যেন খুব ভারি কিছু একটা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। 

লিখতে থাকুন। তারপর ছিঁড়ে ফেলে দিন। যত কুৎসিত হোক , ভহাবহ হোক... আপনি কিছুই লুকাবেন না...
কাগজ কথা বলতে পারে না, কিন্তু সে শোনার কাজটি ঠিকই করে। যিনি লিখছেন তিনি কথা বলছেন; কাগজ কথা শুনছে...সাইকো থেরাপির কাজ চলছে।

Books of Zunayed Evan
Zunayed Evan Vai

Zunayed Evan Vai

— নিজের জন্ম নেওয়া আর নিজেকে জন্ম দেওয়ার মাঝে এক বিস্তর তফাত আছে,আমি নিজেকে নতুন করে জন্ম দিতে চাই🥀🌺

লেখকঃ Zunayed Evan Bhai❤️